স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

শিমুল হাছান, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নেশাগ্রস্ত স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ফাতেমা বেগম পাখি (২৯) নামে দুই সন্তানের এক জননী আত্মহত্যা করেছেন। 

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমান্দারী গ্রামে নানার বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফাতেমা লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নয়নপুর গ্রামের সোহেল হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের মা কোহিনুর বেগম জানান, প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহেলের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে সোহেল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই ফাতেমাকে মারধর করতেন। স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ফাতেমা সম্প্রতি চরমান্দারী গ্রামে তার নানার বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও সোহেল তাকে নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের নির্যাতন সইতে না পেরে বুধবার (৬ মে) গভীর রাতে কোনো এক সময় নানার বাড়ির কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ফাতেমা। বৃহস্পতিবার ভোরে তার মা কোহিনুর বেগম ফজরের নামাজ পড়তে উঠে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেএইচআর