মাগুরায় একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার ও সোনা পাচার চক্রের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমেদ গত ৫ জানুয়ারি মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, আলী আহমেদের মৃত্যুর পর ‘গোল্ড শহিদ’ নামক এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা হিরা খাতুনকে (আলী আহমেদের স্ত্রী) বিপুল পরিমাণ সোনা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে গত ৮ জানুয়ারি যশোর থেকে হিরা খাতুনের ছেলে ফাইমুর রহমান সান ছিনতাইয়ের শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহৃত আইফোন, পরিবারের প্রাইভেটকার এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর কেড়ে নেয়।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র দাবি করেছে, গাড়িটি মাগুরার প্রভাবশালী এক যুবদল নেতার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ছিনতাই হওয়া গাড়ি কীভাবে ওই নেতার কাছে গেল এবং কেন এতদিন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সীমান্তকেন্দ্রিক সোনা পাচার চক্রের বিরোধ থেকেই এই ছিনতাই ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
এই রহস্যজনক ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০০, ৫০১ ও ৫০৬(২) ধারায় দায়ের করা এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে। সাংবাদিক মিরাজের অভিযোগ, সত্য সংবাদ প্রকাশের পর থেকে তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিকভাবে হেয় করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় জিডি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মতে, প্রকৃত অপরাধী ও সোনা পাচার চক্রকে আড়াল করতেই সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিককে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। মাগুরায় সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গাড়ি উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন এবং সোনা পাচারকারী ও সাংবাদিকদের হুমকি প্রদানকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
জেএইচআর