গাজীপুরে কর্মশালা

জিনোম এডিটিং প্রযুক্তিতে আসবে জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন জাত

সিরাজুল ইসলাম তপু, গাজীপুর প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

বাংলাদেশে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গাজীপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার গাজীপুরের ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অধীনে BAS-USDA-PAL অর্থায়িত একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উন্নয়ন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই ছিল এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. তোফাজ্জল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত জীবপ্রযুক্তিবিদ প্রফেসর হাসিনা খান। বক্তারা বলেন, লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাই সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের চলমান গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেন। 

পাশাপাশি সুপ্রিম সীড, লাল তীর ও ব্র্যাক সীডের মতো বেসরকারি বীজ কোম্পানির প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন। সভায় জানানো হয়, আগামী তিন বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট’ ধানের জাত বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষা ও শিল্প খাতের এই সম্মিলিত উদ্যোগ কৃষকদের জন্য অধিক সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত নিশ্চিত করবে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতার মাঝেও দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

জেএইচআর