প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অধিকাংশ অদক্ষ কর্মী যাওয়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত জীবনমান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এখন দক্ষ জনশক্তি তৈরির দিকে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মেরিন এবং ১০৪টি সাধারণ টিটিসি। এসব কেন্দ্রে প্রায় ৫৮টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও কার্যক্রম যাচাই করতেই এই পরিদর্শন করা হচ্ছে।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার বিদ্যমান অবকাঠামোর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের টিটিসিগুলোর সুযোগ-সুবিধা অনেক ক্ষেত্রে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চেয়েও উন্নত। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ অপচয় কমানো এবং কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিএমইটি-এর যৌথ উদ্যোগে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজ আরও গতিশীল করা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে থাকা ১১০টি টিটিসির বাইরে আরও ৫০টি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর-এর মতো প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নতুন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রয়োজন যাচাই ছাড়া অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সরকার আগ্রহী নয় বলেও জানান তিনি। স্থানীয় প্রভাব বা তদবিরের কারণে যেসব এলাকায় প্রশিক্ষণার্থীর চাহিদা কম, সেখানে কেন্দ্র স্থাপন না করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নুরুল হক নুর বলেন, অনেক টিটিসিতে এখনো পুরোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ কারণে টিটিসিগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ সুবিধা দিয়ে উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আশরাফ হোসেন, জ্যোতিষর পালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এম জি