ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভ্যাট–সংক্রান্ত নথিপত্র তদারকিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন স্থানীয় ব্যক্তি।
শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরের দুর্গারামপুর সেতুর পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের ভ্যাট পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে সাইফুল ইসলাম ‘মেসার্স আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভ্যাট নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। তবে সরকারি ছুটির দিনে অভিযান পরিচালনা করায় দোকান মালিক হাবিবুর রহমান তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
সাইফুল ইসলাম নিজের পরিচয়পত্র ও ভিজিটিং কার্ড দেখালেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে দোকান মালিকের পক্ষের লোকজন তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং পরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় সবুজ মিয়াও হামলার শিকার হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ভ্যাট কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন জানান, আহত কর্মকর্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের ওপরে হাড় ভেঙে গেছে।
সাইফুল ইসলামের দাবি, তিনি নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই ওই দোকানে গিয়েছিলেন। কাগজপত্র দেখতে চাইলে দোকান মালিক তাঁকে ‘ভুয়া কর্মকর্তা’ বলে অভিযুক্ত করেন। পরে কয়েকজন কর্মচারীকে নিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এরপরও হামলার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও ঘটনার পর থেকে তাঁকে দোকানে পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভ্যাট কার্যালয়ের রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল গনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন