বাঁচতে চান বিরল রোগে আক্রান্ত ভাঙ্গুড়ার হাবিবুল্লাহ

মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

একসময় যার হাসি-খুশিতে মুখর থাকত পুরো পরিবার, আজ সেই হাবিবুল্লাহর প্রতিটি নিঃশ্বাস কাটছে মৃত্যুভয়ে। জীবন কাটছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। ১০ বছর আগে স্ত্রী তাকমিনা দুধের শিশু তাহিদ আর আদরের মেয়ে বুলবুলিকে রেখে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

পরবর্তীতে নতুন করে আর বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। এরই মধ্যে শরীরে বাসা বেঁধেছে জটিল রোগ। শরীরে প্রচুর পরিমাণে ছোট ছোট গুটি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা তার পরিবারের সাধ্যের অতীত।

পরিবারের সদস্যদের পেটের ক্ষুধা আছে, কিন্তু তা মেটানোর সামর্থ্য নেই তার। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের দুধবাড়ীয়া গ্রামের মৃত রিয়াজ মোল্লার ছেলে হাবিবুল্লাহ। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, তাদের অভাব-অনটনের সংসার। হাবিবুল্লাহ ১০ ভাই, যার যার মতো ব্যস্ত। একদিকে অসুস্থ শরীরে কেউ কাজে নিতে চায় না, অন্যদিকে রোগের যন্ত্রণা, সব মিলিয়ে থমকে গেছে হাবিবুল্লাহর জীবন।

অভাবের কাছে পরাজিত স্বপ্ন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় শুধুমাত্র বসতবাড়ি ছাড়া সহায়-সম্বল যা ছিল সব শেষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করা যেন তার কাছে আকাশকুসুম কল্পনা।

হাবিবুল্লাহর শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত থলথলে মাংসপিণ্ডের গুটি দিনকে দিন বেড়েই চলছে। সচল দু’টি চোখের একটি মাংসপিণ্ডের গুটিতে প্রায় অচল হতে চলেছে। তার ভালোবাসার ধন ছেলে-মেয়েদের কি হবে? তিনি ছাড়া তো ওদের আর কেউ নেই। বাঁচার আকুতি জানিয়ে হাবিবুল্লাহ একটাই কথা বলছেন, “আমাকে বাঁচান।” তিনি তার জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন।

এএন