দরিদ্র কৃষক ইদ্রিছের আহাজারি

সবডা ক্ষেত পানিতে ডুব্বে গেছে

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

‘ক্ষেতটার মাঝে নাকের হমান পানি’-সত্তরোর্ধ্ব কৃষক ইদ্রিছ মিয়া চোখে-মুখে হতাশা নিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান একা একা কেটে নৌকায় তুলে সড়কের পাশে আনছেন। এরপর দুর্গন্ধযুক্ত সেই ধান নৌকা থেকে অ্যামোনিয়াম বস্তায় ভরে সড়কে তুলছেন।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ক্ষেত কাটতে তাঁর কোনো সহযোগী নেই। মোহনগঞ্জ উপজেলার ৭নং গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর গ্রামের এই কৃষকের একমাত্র ছেলে জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করেন।

ইদ্রিছ মিয়ার একটাই লক্ষ্য-বৃষ্টি নামার আগেই কোনোভাবে পানির নিচে থাকা অর্ধনষ্ট ধান ঘরে তুলে আনা।

শনিবার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর সড়কে তাঁকে এমন ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। শুধু ইদ্রিছ মিয়াই নন, একই গ্রামের সড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে হাওরের কৃষকেরাও একই সংকটে সময় পার করছেন। কেউ পানিতে ডুবে যাওয়া ধান ডাঙায় এনে পচা অংশ শুকাচ্ছেন, কেউ আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ধান সংগ্রহ করছেন, কেউবা প্রচণ্ড রোদে দুর্গন্ধযুক্ত ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন।

চোখেমুখে হতাশা আর বুকে কষ্ট নিয়ে ইদ্রিছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কত কষ্ট কইরা ক্ষেতটা করছিলাম। আট খাটা ক্ষেত সবডা পানিতে ডুব্বে গেছে। যে কয়ডা ধান কাইট্টা আনতাছি, তাও নষ্টের পথে। সারাবছর কিতা খাইমু, কেউ কিছু দেয় না। আমার একটা ছেলে মানুষের বাড়িতে কাজ করে। আমি গরিব মানুষ, কেউ খোঁজ নেয় না।

শনিবার উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের রোদে পানি কিছুটা কমে ডুবে থাকা ধান আংশিক ভেসে উঠেছে। কৃষকেরা দ্রুত ধান কাটছেন এবং ট্রলি ও ছোট-বড় গাড়িতে করে মাড়াইয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।

মাথায় ধানের বস্তা নিয়ে এক কৃষাণী বলেন, জমা নিয়া ক্ষেত করছি, সবডা পানিতে ডুব্বে গেছে। যেটুকু ধান পাইছি, সেটাও শেষের পথে। খলা ভিজা, তবুও কোনোভাবে শুকানোর চেষ্টা করতাছি।

আরেক কৃষক শ্রীকান্ত শীল বলেন, বৃষ্টি আবার কখন আসে বলা যায় না। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই ভেজা খলায় ধান শুকানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর শাকুর সাদী জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো পদক্ষেপ। এর আগে কৃষক পর্যায়ে এত বড় পরিসরে ক্ষতির পর এমন দ্রুত সাড়া দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এম জি