চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন-এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি জেলা কার্যালয়ের সহযোগিতায় রবিবার বিকেলে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুসহ চারটি গ্রুপে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের চিত্রকর্মে মাদকের ভয়াবহতা, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠন, পারিবারিক মূল্যবোধ, শিক্ষার গুরুত্ব এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তুলে ধরে। অনেক শিক্ষার্থী “মাদককে না বলুন” এবং “সে নো টু ড্রাগস” শীর্ষক বার্তাসংবলিত পোস্টার ও চিত্র উপস্থাপন করে উপস্থিত সবার প্রশংসা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

এ সময় অতিথিরা বলেন, মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের মানবিক, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এম জি