তালতলীতে কিশোর হযরত আলী হত্যা, বিনা পারিশ্রমিকে লড়বেন আইনজীবী

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোর মো. হযরত আলী (১৪) এর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমে বিষয়টিকে অপমৃত্যু (ইউডি) হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অবশেষে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলার একপর্যায়ে মাঠে একটি গরু ঢুকে পড়লে হযরত আলী সেটি তাড়ানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় রহিম মাস্টারের ছেলে মুসা ঘরামীর সঙ্গে হযরত আলীর বাগবিতণ্ডা হয়। 

অভিযোগ রয়েছে, পরে মুসাসহ একদল লোক লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে হযরত আলীর ওপর হামলা চালায়। মারধরের একপর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গুরুতর আহত হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, আহত হযরতকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রভাবশালীরা বিচার-সালিশের নামে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। অর্থাভাব ও চাপের মুখে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করাতে পারেননি তার বিধবা মা। পরে ঢাকা থেকে নিহতের চাচা এসে তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক মহলের চাপে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করানো হয়। হযরত আলী মৃগী ও হাঁপানি রোগে মারা গেছে বলে প্রচার করে প্রকৃত ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করা হয়েছিল। 

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সচেতন মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে মঙ্গলবার (১২ মে) নিহতের চাচা মো. হাবিব খলিফা বাদী হয়ে বরগুনার সিনিয়ল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ আইনজীবী মো. বেল্লাল হোসেন খান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরো মামলাটি প্রো-বোনো (বিনা পারিশ্রমিক) ভিত্তিতে লড়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। একজন অসহায় মায়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি এখনও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। 

অন্যদিকে, অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এবং তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেএইচআর