রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দুটি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
মঙ্গলবার বিকেলে উজানচর ইউনিয়ন এলাকায় পৃথক দুটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, খালখনন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি প্রকল্প। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে। পাট মৌসুমে খালের পানিতে পাট জাগ দিতে পারবে। এছাড়াও মাছ চাষসহ বিভিন্নভাবে খালের পানি স্থানীয় মানুষের উপকারে আসবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পটি বুধবার (১৩ মে) একনেক সভার কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আশা করছি, একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে। পাশাপাশি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের মেগা প্রকল্পটিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। উভয় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও জলাশয়ে সারা বছর পানি থাকবে। এতে কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- উজানচর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথপাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭২ টাকা। এছাড়া উজানচর হাবিল মন্ডলপাড়া কালামের বাড়ি থেকে ফৈজদ্দিন মাতব্বরপাড়া সলিম মাতুব্বরের বাড়ি পর্যন্ত ০ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় হবে ২৭ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ টাকা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা, ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
পরে প্রতিমন্ত্রী খালের আশপাশে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।
এএন