যুবলীগ-বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ৪০

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে যুবলীগ নেতা আব্দুল মুহিত ও বিএনপি নেতা শাহাদীব (মেম্বার)-এর লোকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজনের মৃত্যু ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামের ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদীব (মেম্বার) এর লোকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম রতন মিয়া। তিনি বিএনপি নেতা শাহাদীব মেম্বারের পক্ষের লোক ছিলেন। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, সংঘর্ষে আব্দুল মুহিত পক্ষের আহত অন্তত ২০ জন এবং শাহাদীব পক্ষের কয়েকজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় শাহাদীব মেম্বারের পক্ষের আহত ১০ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত আল আমিন (২৬) ও সোনাই মিয়া (৭৫) কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিনগর গ্রামের ইউপি সদস্য ও ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদীব মেম্বার এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিতের মধ্যে রাজনৈতিক ও গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিক মামলা রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগের একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে ভাটিপাড়া বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে আব্দুল মুহিতের লোকজন শাহাদীব মেম্বারকে আটকিয়ে মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহাদীব মেম্বারের লোকজন ও আব্দুল মুহিতের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে মুহিত মিয়ার লোকজন শাহাদীব মেম্বারের পক্ষের লোকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএন