মমেকে হামের থাবায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের ভয়াবহতা যেন থামছেই না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, সেই সঙ্গে বাড়ছে অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন মোট ৩২ শিশুর মৃত্যু হলো।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন জামালপুর সদর উপজেলার ৩ মাস বয়সী শিশু এবং অপরজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১০ মাস বয়সী শিশু। তারা দু’জনই ‘সাসপেক্টেড মিজলস উইথ নিউমোনিয়া’ নিয়ে হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকদের ভাষ্য, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

মমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ৯৬ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১ জন। গত দুই মাসে, অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৯৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৬৬ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছে।

হাসপাতালজুড়ে এখন চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু ওয়ার্ডগুলোতে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন, গ্রামের মানুষ এখনও হামের প্রাথমিক উপসর্গকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে জটিলতা বাড়ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, “হামের প্রকোপ মোকাবিলায় হাসপাতাল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ইউনিটে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে দেরিতে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এএন