অবৈধ পথে ইউরোপের দেশ ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন কেড়ে নিল লিবিয়ার বন্দিশালা আর দালালদের অমানবিক নির্যাতন। মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের তছির ফকির (৪০) নামের এক যুবক লিবিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের বিপুল অংকের টাকা দেওয়ার পরও দালালেরা তাঁকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
নিহত তছির ফকির পেশায় একজন চা-দোকানি ছিলেন। স্বচ্ছলতার আশায় আট মাস আগে রাজৈরের পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা দালালের মাধ্যমে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি।
তছিরের পরিবার জানায়, দালালেরা ধাপে ধাপে তছিরের জীবন ও চিকিৎসার নাম করে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
দুবাই হয়ে লিবিয়া যাওয়ার জন্য প্রথমে নেওয়া হয় ২৫ লাখ টাকা। লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পর আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে শেষ দফায় নেওয়া হয় আরও ৩ লাখ টাকা।
জমিজমা সব বিক্রি করে এই টাকা পরিশোধ করলেও তছিরকে জীবিত ফেরত পায়নি তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তছিরের মৃত্যুতে তাঁর তিন মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা এখন দিশেহারা। নিহতের স্ত্রী এসমোতারা বেগম আহাজারি করে বলেন, "আমার স্বামী ও টাকা- দালালেরা দুইটাই কেড়ে নিল। আমার ছোট ছোট তিনটা মেয়ের কী হবে? যারা আমার স্বামীকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারল, আমি তাদের বিচার চাই।"
নিহতের ভাই শাহিন ফকির জানান, জমি বিক্রি করে দালালদের টাকা দিয়ে এখন তাঁরা পুরোপুরি নিঃস্ব। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দালাল রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে।
ইউএনও মাহফুজুল হক বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে মানবপাচার ও হত্যার সাথে জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন