কলাপাড়ায় লবণ পানির কবলে কৃষিজমি, স্লুইচ গেট চালুর দাবি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অতিরিক্ত জোয়ারের নোনা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ফসলি জমি। এতে কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে শত শত কৃষক। ইতোমধ্যে লবণ পানি প্রবেশ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক কৃষক। জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে বসতবাড়ির আঙিনায়। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। এমন দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিচকাঁটা ভাঙ্গা স্লুইচ গেট সংলগ্ন গ্রামগুলোতে। তবে পাশেই নতুন স্লুইসের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অতিদ্রুত স্লুইসটি চালুর দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে জানা যায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নিচকাঁটা স্লুইচ গেটটি দীর্ঘ বছর ধরে অরক্ষিত ছিল। বিগত দুই বছর আগে সেখানে একটি নতুন স্লুইচ গেট নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। সেটির কাজ এখন প্রায় শেষের পথে। শুধু মাত্র ব্লক বসালেই শেষ। কিন্তু এর মধ্যেই পুরাতন ভাঙা স্লুইস দিয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এতে শত শত একর জমি অনাবাদি হওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

তাদের মতে, নিচকাঁটা, নবীপুর, টুঙ্গিবাড়িয়া, মজিদপুর, নাওভাঙ্গা ও কুমিরমারাসহ অন্তত দশটি গ্রামের ফসলি জমিসহ কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্লুইস সংলগ্ন বাসিন্দাদের ঘরবাড়ির আঙিনায় পানি প্রবেশ করে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অতিদ্রুত নতুন স্লুইসটি চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন কৃষকসহ স্থানীয়রা।

কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী, নিচকাঁটা গ্রামের রশিদ মাতুব্বর, মিলন তালুকদার ও মাও. আব্দুর রশিদসহ আরও অনেকে জানান, নিচকাঁটার ভাঙা স্লুইচ গেট দিয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে তাদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। অতিদ্রুত নতুন স্লুইচ গেটটি চালুর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

নতুন স্লুইসের স্থানীয় ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে কাজটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশন করে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন স্লুইচ গেটটি চালুর ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

এএন