দিনাজপুরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে, প্রস্তুত সোয়া ৪ লাখের বেশি পশু

দিনাজপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

দিনাজপুর জেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। জেলায় এবার ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারিসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার ৬৮টি পশুর হাটে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররাও গবাদি পশু কিনতে হাটে আসতে শুরু করেছেন।

জানা গেছে, বিরামপুর পুরাতন বাজার বৃহত্তম কোরবানির পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু এসেছে। এ ছাড়া জেলার সর্ববৃহৎ চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর, ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ, পার্বতীপুর উপজেলার আমবাড়ী এবং কাহারোল পশুর হাটে পাইকারদের আনাগোনা অনেক বেশি।

হাটের ইজারাদাররা জানান, পাইকাররা এসব হাট থেকে ভালো মানের পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের কাছে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। বেশির ভাগ ক্রেতাই লাখ টাকার মধ্যে কোরবানির গরু খুঁজছেন। তবে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গতবারের চেয়ে এবার দাম কিছুটা কম বলে জানান ক্রেতারা। অন্যদিকে গো-খাদ্যের চড়া দামের কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর আমবাড়ী হাটে গরু নিয়ে আসা খামারি মাহফিজুল ইসলাম রিপন জানান, তিনি শাহীওয়াল জাতের ৫টি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন এবং প্রতিটির দাম হাঁকাচ্ছেন ৩ লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। অথচ গত বছর একই রকম গরু তিনি ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। 

আরেক বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, মাঝারি আকারের ৪টি দেশি ষাঁড় লালন-পালন করতে তাঁর প্রতিটি গরুতে খরচ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বেশি, কিন্তু ক্রেতারা দাম বলছেন ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার খরচ বেশি হলেও সেই তুলনায় দাম মিলছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা জানান, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকায় যেন কোনো ধরনের কেনাবেচা না হয়, সে জন্য হাটগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া জাল নোট পরীক্ষার জন্য নিয়োজিত আছে ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এবং প্রতিটি হাটে টাকা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় ষাঁড়, বলদ ও গাভী মিলে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরু, ২৪৮টি মহিষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি ছাগল, ১৩ হাজার ৭২৯টি ভেড়া ও ২১টি দুম্বা কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এই জেলায় চাহিদার দ্বিগুণেরও বেশি পশু মজুত রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাটে যেন কেউ অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতে না পারে, সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ বা রুগ্ন পশু যাতে বিক্রি হতে না পারে, সেজন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রতিটি হাটে কাজ করছে।

জেএইচআর