মেহেরপুরে মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৩ তরুণ-তরুণী

মেহেরপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১২:২০ এএম

কোনো ধরনের অনিয়ম, সুপারিশ কিংবা তদবির ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাত্র ১২০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি পেয়েছেন মেহেরপুরের ১৩ জন তরুণ-তরুণী। শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে তাঁরা প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে ১২ জন তরুণ এবং ১ জন তরুণী রয়েছেন।

রোববার রাত ৮টার দিকে মেহেরপুর পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সকাল ১০টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে উত্তীর্ণ ১৮১ জন তরুণ-তরুণী মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশ নেন। ভাইভায় মোট ৩৮ জন উত্তীর্ণ হন। এরপর সব ধাপের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ১২ জন পুরুষ ও ১ জন নারীকে নির্বাচিত করা হয়।

নামমাত্র খরচে সরকারি চাকরি পেয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন নির্বাচিতরা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চাকরি পাওয়া তরুণ-তরুণীরা জানান, কোনো প্রকার দালাল বা তদবিরের ঝামেলা ছাড়াই, শুধুমাত্র নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত এবং আনন্দিত।

সন্তানের এমন সাফল্যে অভিভাবকরাও পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য কোনো ধরনের ঘুষ বা সুপারিশ ছাড়া চাকরি পাওয়াটা সত্যি আশাব্যঞ্জক এবং অবিশ্বাস্য।

পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় ডিশ চ্যানেল, সংবাদপত্র, মাইকিং ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের দালাল ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছিল। আমাদের কঠোর তদারকি ও সতর্কতার কারণেই কোনো অনিয়ম ছাড়াই সাধারণ পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েরা আজ মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন।”

ফলাফল ঘোষণার সময় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম এবং কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচআর