খেলতে গিয়ে আর ফেরা হলো না, মাগুরায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

মাগুরার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বজ্রুক শ্রীকুন্ঠি বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলো- বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে নূসরাত (৭) এবং একই এলাকার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে নাঈম (৬)। তারা সম্পর্কে ফুফু-ভাতিজা। শিশু দুটির এই অকালমৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির উঠানে খেলছিল দুই শিশু। কিছুক্ষণ পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবার ধারে শিশু দুটির স্যান্ডেল দেখতে পান তাঁরা। এরপর ডোবায় নেমে শিশুদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে দ্রুত তাদের মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইমরান বলেন, দুই শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, গ্রামাঞ্চলে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অল্প সময়ের অসতর্কতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এই বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা বলছেন, বাড়ির আশপাশে খোলা ডোবা বা জলাশয় গ্রামাঞ্চলে সাধারণ হলেও তা শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। খেলাধুলার সময় কয়েক মিনিটের অসতর্কতাই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির পাশের জলাশয় ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা, শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গার অভাব এবং নজরদারির ঘাটতিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে এখন শুধুই কান্না আর নীরবতা। সকালে যে দুই শিশু হাসিমুখে উঠানে খেলছিল, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের নিথর দেহ ঘিরে ভেঙে পড়েছে পরিবার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

জেএইচআর