পাকুন্দিয়ায় নিষ্কাশনের পথ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় ১০ একর কৃষিজমি পানির নিচে

এম এ হান্নান, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের বর্ষাগাতী ও নামা মির্জাপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১০ একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ধানচাষি ও পানের বরজ মালিকরা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বছরে তিনটি ফসলের পাশাপাশি পানের বরজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। কিন্তু পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমে থাকা পানি নামতে পারছে না। ফলে ধানক্ষেত ও পানের বরজে এখন দীর্ঘস্থায়ী কৃত্রিম বন্যা দেখা দিয়েছে।

বর্ষাগাতী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছিদ্দিক হোসেন ওরফে বাবুল মিয়া (৬০) বলেন, কৃষিকাজ করেই আমার সংসার চলে। ৪৫ শতাংশ জমিতে পান চাষ করেছিলাম। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বরজে পানি জমে সব পানের গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইসরাইল মিয়া, রেজিয়া খাতুন, সবুজ ও রতন মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি জায়গা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলেই পুরো এলাকার কৃষিজমিতে এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

একই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রিয়াজ উদ্দিন, ইউসুফ, সাহাব উদ্দিন, রফিক, মোজাম্মেল, হেলাল, রতন ও দুলাল মিয়াসহ অনেকেই জানান, খালের মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বিলের পানি নামতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বিস্তীর্ণ জমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিয়া খাতুন বলেন, সরকারি জায়গা দিয়ে খাল আছে, প্রশাসন সেটি উদ্ধার করে পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করুক। আমার ব্যক্তিগত জায়গা দিয়ে পানি যেতে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তাঁর ছেলে লিটন বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে পানি যেতে দেওয়া হবে না।

পাকুন্দিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রিফাত জাহান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর