বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোটে জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ মতামত উপেক্ষা করায় দেশে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে এবং এর প্রভাবে মন্ত্রী-এমপিদের জনসম্মুখে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
শনিবার বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের বড় প্রত্যাশা নিয়ে গঠিত সরকার ও সংসদ প্রথম অধিবেশন থেকেই জনআস্থার সংকটে পড়েছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর ফলে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে এবং মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় দলীয় প্রভাব বাড়ছে। এতে নিরপেক্ষ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ বিষয়ে একমত হয়েছিল এবং সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল। তার ভাষায়, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল, তবে গণভোট আগে হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না বলেই তারা ফলাফল মেনে নিয়েছে। তবে এখনই সরকারের পদত্যাগ নয়, বরং জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানান তিনি।
বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় চারটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা উচিত। তা না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনে সরকার গণভোট সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করে তা পাস করবে এবং এর মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।
এম জি