কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মাগুরার অন্যতম বড় পশুর হাট রামনগর এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। দুপুর গড়াতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি গরু-ছাগল নিয়ে হাটে আসছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ব্যস্ততম এই হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে র্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহের একটি চৌকস দল।
শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাট এলাকায় টহল, পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন র্যাব সদস্যরা।
এ সময় তাঁরা ক্রেতা-বিক্রেতা, হাট ইজারাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। হাটে জাল টাকা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কৃত্রিম উপায়ে দামের কারসাজির মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
র্যাব সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোতে নগদ টাকার লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় অপরাধী চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে হাটে আগত মানুষকে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও জাল নোট সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ এর ডিএডি আল ফারুক ও এসআই সাইদুর রহমান।
রামনগর পশুহাটের ইজারাদার নুরে আলম দীপু বলেন, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে বারোশো গরু এবং চার থেকে পাঁচশো ছাগল হাটে উঠছে। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, পশুর সংখ্যা আরও বাড়বে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ও পুলিশের উপস্থিতি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি তৈরি করেছে।
হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর পাশাপাশি বড় আকৃতির দেশি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর চাহিদা বেশ ভালো। তবে বাজারে নগদ টাকার লেনদেন বেশি হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তার বিষয়ে কিছুটা শঙ্কার কথা জানালেও র্যাবের সক্রিয় উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, অতীতের তুলনায় এবার হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ছে। এতে করে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই স্বস্তিতে হাটে এসে দরদাম করা যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে জেলার পশুহাটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএইচআর