ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাগুরার বাজারে মিষ্টি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে একটি মিষ্টির প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার সৈয়দ আতর আলী রোড ও পুরাতন বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, মশলার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান তদারকি করা হয়। এর মধ্যে সৈয়দ আতর আলী রোডের “রাজশাহী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম পাওয়া যায়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানটিকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিক্রি চলছিল।
পরিদর্শনে দেখা যায়, কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাদ্য প্রস্তুত করছেন। টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ ছাড়া মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া মিষ্টির মধ্যে পোকামাকড়ের উপস্থিতি, মাকড়সার জালযুক্ত ও ময়লাযুক্ত র্যাকে খোলা মিষ্টি সংরক্ষণ এবং একই ফ্রিজে খোলা ছানার সঙ্গে বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি রাখা হচ্ছিল।
এছাড়া মিষ্টিতে অননুমোদিত রং ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক সঞ্জয় সরকারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে বাজারে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। সেই সুযোগে কেউ যেন অস্বাস্থ্যকর বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।”
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী বলেন, “খাদ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
পরে পুরাতন বাজার এলাকায় মশলা ও অন্যান্য পণ্যের দোকানও তদারকি করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিকভাবে দাম না বাড়ানো, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি না করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, ডিএসআই মো. ফয়েজুল কবীর এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম সহযোগিতা করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এম জি