ফরিদপুরে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রী রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এখন চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে আজ রোববার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে পাশাপাশি চারজনের কবর খোঁড়া হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে পড়েন বালিয়া গ্রামের হাজী মোহাম্মদ ওয়াহেদ মোল্লার মেজো ছেলে আলমগীর মোল্লা (৪৮)। রোববার সকালে তাঁকে ডাক্তার দেখানোর জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।
পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী বিআরটিসি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারান।
নিহতরা হলেন- আলমগীর মোল্লা (মেজো ভাই), তাঁর স্ত্রী খুশি বেগম, বড় ভাই জাহাঙ্গীর মোল্লা, জাহাঙ্গীর মোল্লার স্ত্রী বেলী বেগম এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওসার মাতুব্বর।
বিকেল ৪টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি বালিয়া গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেজো ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য বড় ভাই ও ভাবিও সঙ্গে গিয়েছিলেন। কিন্তু এক নিমিষেই দুটি পরিবারের প্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা চলে গেলেন। এই ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। প্রশাসন ও ঘাতক বাসের চালকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এএন