মঠবাড়িয়ায় পৃথক স্থানে ২ যুবককে কুপিয়ে হত্যা

​মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক দুটি স্থানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৪ মে) উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন ও ধানীসাফা ইউনিয়নের দুটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) এবং একাধিক মামলার আসামি ইউসুফ শরীফ (৩৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর প্রায় ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলঝুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মো. ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মো. আরাফাত শরীফ (৩০), তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফ শরীফের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। তবে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত কারণেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

এদিকে, একই দিনে টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদার বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুমের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় রেডিমেড পোশাকের ব্যবসা করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় কাইয়ুমের স্ত্রী বাবার বাড়িতে ছিলেন এবং তিনি ঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাইয়ুমের মাদকাসক্তির বিষয়টিও ছিল, তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ফুলঝুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। টিকিকাটা ইউনিয়নের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। দুটি ঘটনার বিষয়ে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এম জি