চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানারচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে ঝড়ে গাছ ভেঙে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। গত ২৭ মে মধ্যরাত থেকে ২৮ মে দিনগত রাত পর্যন্ত এই বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। এর ফলে ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এমনকি ক্ষোভ ও মাংস সংরক্ষণের অনিশ্চয়তা থেকে অনেক গ্রামের বাসিন্দা নির্ধারিত দিনে পশু কোরবানি পর্যন্ত দেননি।
শুক্রবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে এখনো অনেক স্থানে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তা ও বসতবাড়ির ওপর পড়ে আছে।
লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার শেখ জানান, গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার রাত ২টায় বিদ্যুৎ এলেও আজ শুক্রবার সকালে তা আবার চলে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের গ্রামের অনেকেই কোরবানি দেননি। কারণ, গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরেই এখন রেফ্রিজারেটর রয়েছে এবং অনেকেই কোরবানির মাংস স্বজনদের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। বিদ্যুৎ না থাকায় নষ্ট হওয়ার ভয়ে তাঁরা কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে সরবরাহ বন্ধ ছিল। খবর দেওয়ার পর পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করেন।
তবে চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝড়ে সড়কে ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আগে থেকেই এসব গাছপালা কেটে সরবরাহ লাইন পরিষ্কার রাখা। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের কাজে চরম অবহেলা রয়েছে। যার কারণে ঈদে বাড়ি ফিরে মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হলো।
একই গ্রামের মাইনুল ইসলাম জানান, চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর, জব্বর ঢালী এবং পাশের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিল। এ ছাড়া বুধবার সকালের ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পর থেকেই আমাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে নিরলস কাজ করেছেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে প্রধান লাইনগুলো সচল করা হয়েছে। এরপরও যদি সুনির্দিষ্ট কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, আমাদের জানালে সেখানে দ্রুত টিম পাঠিয়ে কাজ করা হবে।
জেএইচআর