ঈদুল আজহার প্রথম দিন সবাই কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটাকুটিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তাই ঈদের পরদিন আজ পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়েছেন প্রিয় কোনো বিনোদন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে। এর ফলে বরিশালের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে এখন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার বিকেল থেকেই নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পাড়, বেলস পার্ক, প্লানেট ওয়ার্ল্ড, দুর্গাসাগর দিঘি, গুঠিয়া মসজিদ, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক ও সিটি পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ঢল নামে।
ঈদের ছুটিতে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা অবসর পেয়ে বরিশালের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপরিবারে ঘুরতে এসেছেন অনেকে। নগরীর প্লানেট ওয়ার্ল্ডের সামনে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সেখানে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে বানারীপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আজ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে প্লানেট ওয়ার্ল্ডে ঘুরতে এলাম। ছেলে খেলনা ঘোড়ায় চড়েছে, এখন প্লেনে উঠবে। আমরা সবাই বেশ আনন্দ করছি।
নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া মুমু বলেন, ঈদের প্রথম দিনের ব্যস্ততা শেষ করে আজ বেলস পার্কে ঘুরতে এসেছি। ভেবেছিলাম আগামীকাল থেকে বেশি ভিড় হবে, কিন্তু আজকেই অনেক মানুষ এসেছে। বন্ধুদের নিয়ে পরে নদীর পাড়েও যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা কাইয়ুম হোসেন জানান, ঈদের দিন সকালে পশু কোরবানি দিয়ে দিনভর মাংস বণ্টন ও আনুষঙ্গিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আজ সন্ধ্যায় সন্তানদের আবদারের কারণে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ছোট ভাই-বোনও সঙ্গে এসেছে। এখানে নাশতা করে পরে প্লানেট ওয়ার্ল্ডে যাব। সেখানে বাচ্চাদের বিভিন্ন রাইডে চড়িয়ে তারপর বাসায় ফিরব।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ ও র্যাব। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর