ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

আরিফ হোসেন, বরিশাল প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গত ৫ দিনে পাঁচটি পৃথক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন নিহত এবং প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঈদের ছুটির সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

পৃথক দুর্ঘটনায় মা-বাবার সঙ্গে সন্তানসহ একই পরিবারের তিনজনের প্রাণ গেছে। এছাড়াও আরেক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান।

গত মঙ্গলবার (২৬ মে) চার বছর পর স্ত্রী ও ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরছিলেন উজিরপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ (৩৯)। পথিমধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গৌরনদী উপজেলার মহাসড়কের বাটাজোর বাসস্ট্যান্ডে যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে রাখেন। এসময় তাজ আনন্দ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফিরোজ মাহমুদসহ তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং কন্যা জান্নাত আক্তার (৪) নিহত হন। ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা বাসটি ভাঙচুর করে।

অপরদিকে শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার টরকি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় যাত্রীবাহী লাবিবা গ্রুপের আহানাত পরিবহনের ধাক্কায় উজিরপুরের সাতলা গ্রামের মৃত হানিফ বিশ্বাসের ছেলে মোটরসাইকেল চালক শাহ আলম (৩৯) নিহত হন।

একই দিন সকাল ৯টার দিকে দশমিনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দুধের বাজারে ঢুকে পড়ে। এতে পথচারী তারাকুপি গ্রামের মৃত আলম চৌকিদারের ছেলে জাহাঙ্গীর চৌকিদার (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও চারজন পথচারী আহত হন।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাউদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় পথচারী উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের মো. আইয়ুব আলীর স্ত্রী মোসা. হাসিনা (৫৫) নিহত হন।

ওসি মহসীন আরও জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে গৌরনদীতে পৃথক পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন।

এএন