খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের পাটনীখালী হাফিজিয়া মাদরাসার সহকারী মুহতারিম ফয়সাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সহকারী মুহতারিম বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিজের খেদমতের কথা বলে এই শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অনৈতিক বিষটি কাউকে জানালে বা প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীদের মারধরের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন ওই শিক্ষক। অভিযুক্ত সহকারী মুহতারিম একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাঁর নামে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতিত একজন শিক্ষার্থী জানায়, হুজুরের খেদমতের দায়িত্বে থাকাকালীন তার সাথে বেশ কয়েক দিন এই ধরনের খারাপ কাজ করা হয়েছে। ভয়ের কারণে সে এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেনি।
নির্যাতিত এক ছাত্রের বাবা বলেন, আমার ছেলের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার বিচার চাই। আমার সন্তান মাদরাসা থেকে বাড়িতে চলে এলে আমি তার কাছে কারণ জানতে চাইলে সে চুপ থাকে। পরবর্তীতে তাকে মাদরাসায় যেতে চাপ প্রয়োগ করলে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলাৎকারের বিষয়টি প্রকাশ করে। ঘটনাটি বড়ই স্পর্শকাতর এবং এর সঙ্গে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের মান-সম্মান জড়িত থাকায় আমি কী পদক্ষেপ নেব তা বুঝতে পারছিলাম না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী মুহতারিম ফয়সাল হোসেন দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এলাকার কিছু ব্যক্তি শত্রুতাবশত তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা করছেন। তবে একাধিক শিক্ষার্থী কেন একই ধরনের অভিযোগ করল এ বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর