মাগুরা পৌরবাসীর নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) আজ অচল। যে প্রকল্প একসময় সুপেয় পানি সরবরাহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, সেটিই এখন হাজারো গ্রাহকের কাছে ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
শিমুলিয়া এলাকায় নির্মিত এই প্ল্যান্টটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হয় ২০১৭ সালে। পরবর্তীতে মাগুরা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রকল্প হস্তান্তরের সময় দাবি করা হয়েছিল, প্ল্যান্টটি প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, পরিশোধন ও সরবরাহ করতে সক্ষম। কিন্তু বর্তমানে প্ল্যান্টটি বন্ধ এবং পৌরবাসীর বড় একটি অংশ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত।
মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারীর ভাষ্যমতে, প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় প্রয়োজন। পৌরসভার নিজস্ব তহবিলে সেই অর্থ নেই।
পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার হিসাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ২৩১ জন গ্রাহকের বিপরীতে প্রায় ৬৯ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আদায়ের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে বকেয়ার পরিমাণ ৫১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার বেশি।
পানিগ্রাহকদের অভিযোগ নিয়মিত বিল আদায়ের দাবি থাকলেও সেবার মান সন্তোষজনক নয়। অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ অনিয়মিত, কোথাও চাপ কম, আবার কোথাও পানি পাওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পানি শোধনাগার প্রকল্প শুধু নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। এর দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং আর্থিক পরিকল্পনা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে ঘাটতি থাকলে প্রকল্প দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, টেন্ডার সংক্রান্ত বা আদার্স বিষয়ের তথ্য আমার কাছে নেই এগুলো ঢাকা হেড অফিসে থাকে সংগ্রহ করে কিছু তথ্য দেয়া যাবে আর কিছু দেয়া যাবে না।
মাগুরাবাসীর দাবি, ৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প কেন অচল হলো,তার পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও আর্থিক তদন্ত করা হোক। প্রকল্পের পরিকল্পনা, নির্মাণ, ব্যয়, হস্তান্তর এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সবকিছু নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এএন