দীর্ঘদিনের বিরোধ, উত্তেজনা ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে শান্তি ও সহাবস্থানের পথে হাঁটার অঙ্গীকার করেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামের বিবাদমান দুই পক্ষের সদস্যরা। জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্প্রীতি সভায় আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ মতপার্থক্য দূর করে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। ছোটখাটো বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আইন মেনে চলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অতীতের বিভিন্ন বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির বিষয়গুলো উঠে আসে এবং সেগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি “সামাজিক সম্প্রীতি ও বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি” গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতে এলাকায় যেকোনো সামাজিক বিরোধ বা মতবিরোধ দেখা দিলে এই কমিটি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তা শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ শিবলী সাদিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএম, মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অধ্যক্ষ তৈমুর আলী মৃধা, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম (মুকুল), নজরুল ইসলাম, সোহেল রানা, রবিউল ইসলাম, ওমর ফারুক, হারুন, মিলন কবির, ইদ্দিস আলী মেম্বার, মেজবাউল ইসলাম, রকিবুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, ইকরামুল হক, আওয়াল ফকির, জিসান হাবিব, সাইফুর রহমান, আশরাফুল রহমান, মান্নান, আরিফ সিকদার, তালেফ খান, ফয়জুর রহমান (ফয়েজ), ডা. রইস উদ্দিন, আখতারুজ্জামান, শাহাদাৎ হোসেন, আশরাফুজ্জামান ও হাসান মিয়াসহ অনেকে।
দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষ পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সভার একপর্যায়ে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন ও কোলাকুলি করে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর অঙ্গীকার করেন।
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু একটি বিরোধের সমাধানই নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে সহমর্মিতা, সংলাপ ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পুলিশ ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
এএন