ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয় নিলেন সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহাদী

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান, যিনি চলতি বছরের শুরুতে থানায় বসে দেওয়া এক বক্তব্যের কারণে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন, এবার নিজ নিরাপত্তার আশঙ্কায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে মাহাদী দাবি করেন, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করছেন। লাইভ চলাকালে তাকে উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। এক পর্যায়ে তিনি রিকশাযোগে হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে রওনা হন এবং পরে থানায় প্রবেশ করে পুলিশের সহযোগিতা চান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার পিছু নিয়েছেন। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষাংশে তিনি জানান, তিনি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছেন। মাহাদীর দাবি, একটি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে অনুসরণ করা হয় এবং হামলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া দেওয়া হয়।

মাহাদী আরও দাবি করেন, তিনি আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক যুবকের মুক্তির দাবিতে মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী থানায় যান। সে সময় ওসির কক্ষে প্রবেশ করে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

এদিকে বুধবারের ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাহাদী হাসানের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য তারা জেনেছেন।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভিডিওটি দেখেছি, সেখানে ছাত্রদলের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। মাহাদীও নির্দিষ্ট করে কাউকে দেখাতে পারেননি।’

ওসি আরও জানান, মাহাদী থানায় এসে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে থানাতেই অবস্থান করছেন।

এএন