সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তাঁর দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার এসআই নূর উদ্দিন এই চার্জশিট দাখিল করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ২১ জন সাক্ষী এবং দুটি আলামত অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে।
অভিযুক্ত তিন ভাই জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে নিহত শিশুর চাচা। প্রধান আসামি জাকির হোসেন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাঁর দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালাম পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট পেতে বিলম্ব ও ছুটির কারণে তদন্তে কিছুটা সময় লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু ফাহিমা। দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ব্রিফকেসে লুকিয়ে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করেছিল।
জেএইচআর