বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ কক্সবাজার জেলায় ঐতিহাসিক ‘পাতলি খাল’ (ক্যানেল) পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এই খালটি তাঁর পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।
শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল আনুমানিক ১০:৫৩ মিনিটে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে অবস্থিত পাতলি খালের পুনঃখনন কাজের ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
আজ সকাল থেকেই কক্সবাজারে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে তীব্র বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সরাসরি পিএমখালীর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সেখানে তিনি নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন।
খাল খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিতে খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।
সকাল থেকে চলা অবিরাম বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাতলি গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার হাজার হাজার উৎসুক জনতা খালের দুই পাড়ে এসে ভিড় জমান। আবালবৃদ্ধবনিতা নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর একনজর দেখা পাওয়ার জন্য স্থানীয় অধিবাসীরা ছাতা মাথায় দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খালের পাড়ে অপেক্ষা করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে সমবেত জনতা হাত নেড়ে এবং করতালির মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় পুরো এলাকায় 'প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম' স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদনের জবাব দেন।
ঐতিহাসিক এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদুদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান।
এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীবৃন্দ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পাতলি খালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কক্সবাজারের পিএমখালী ইউনিয়নের এই পাতলি খালটির একটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগে, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান পিএমখালী ইউনিয়ন সফর করেছিলেন। সেই সফরে তিনি নিজেই কোদাল হাতে নিয়ে এই পাতলি খাল খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সে সময় খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারাও রোপণ করেছিলেন, যা আজও খালের পাড়ে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। পিতার স্মৃতিবিজড়িত এবং তাঁর হাত ধরে শুরু হওয়া সেই ঐতিহাসিক খালেই দীর্ঘ ৪৮ বছর পর আজ পুনঃখনন কাজের সূচনা করলেন সুযোগ্য পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীদের সূত্র থেকে জানা গেছে, পাতলি খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় আট কিলোমিটার। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পুনঃখননের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে স্থানীয় কৃষি ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই পুনঃখনন প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি, মৎস্য চাষ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এই ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুরোপুরি পুনঃখনন করা হলে পিএমখালী ইউনিয়ন এবং এর আশেপাশের এলাকার প্রায় ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজের পানির সংকট দূর হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। স্থানীয় কৃষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খালটি পুনরায় প্রাণ ফিরে পেলে এই অঞ্চলের কৃষিজ উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এবং গুণগত মান বজায় রেখে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সুধীজন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্প এলাকার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এএন