তদন্ত চলাকালে জামায়াত নেতা এম বি বাকেরের রুকনিয়াত স্থগিত

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাগুরা জেলা শাখার আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকেরকে জেলা আমিরের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর রুকনিয়াত (সদস্যপদ) তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা শূরা ও কর্মপরিষদের যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

সভায় যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুবারক হোসেন এই ঘোষণা দেন। এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিমের সদস্য আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক এম বি বাকেরের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ বাচ্চুকে ভারপ্রাপ্ত জেলা আমির এবং সহকারী অধ্যাপক মশিয়ার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা-কর্মীর অভিযোগ, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে এম বি বাকেরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বৈষম্য, আর্থিক অনিয়ম, অর্থ তসরুফ এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে গঠনতন্ত্র উপেক্ষার অভিযোগ ওঠে। লিখিত এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন, সালিশ ও চাকরি বাণিজ্য, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে আর্থিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিপছন্দের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এসব বিষয়ে বর্তমানে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্ত ও পর্যালোচনা চলমান রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামির জামিনের তদবিরে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে এম বি বাকেরকে জেলা আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তিনি পুনর্বহাল হন।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক এম বি বাকের দাবি করেন, তিনি সফরের জন্য তিন মাসের ছুটি নিয়েছেন এবং সে কারণেই দলীয়ভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে জেলা শূরা ও কর্মপরিষদের সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রুকনিয়াত তিন মাসের জন্য স্থগিত এবং দায়িত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

জেএইচআর