বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-২০৩০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি একটি নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান একটি বারোমাসি আমড়া গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামও পৃথকভাবে চারা রোপণ করেন। উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স হলে ‘প্রতিটি চারা হোক গ্রিন ক্যাম্পাসের নতুন স্বপ্নের সূচনা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশব্যাপী কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের ঘোষিত এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও নেতৃত্ব তৈরিরও প্রতিষ্ঠান। তাই পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন চর্চায় বাউবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপাচার্য আরও, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। এ সময় উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক ও কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের ডিনের স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি. এম. আহমেদ হুসেইন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধানসহ সব স্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এতে যুক্ত ছিলেন।
জেএইচআর