মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়নের মধুমতি নদীর তীরে ইট প্রস্তুতের জন্য অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আসমা আক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর আওতায় দুটি পৃথক মামলায় দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার গাঙ্গালিয়া এলাকার অক্কুরপাড়ার ট্রাকচালক অখিল বিশ্বাস (৪৫) এবং কচুন্দি এলাকার ভেকু (এক্সকাভেটর) চালক মো. রোমান মোল্লা (২৫)। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযানকালে দেখা যায়, নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে ইট প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে মাটি কেটে তা পরিবহন করা হচ্ছিল। এতে নদীর তীরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, মাগুরার সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব, পুলিশ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. আসমা আক্তার বলেন, নদী, কৃষিজমি ও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে মাটি কাটতে পারবে না। সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শোয়াইব মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, অবৈধ মাটি কর্তন শুধু পরিবেশের জন্য নয়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের জনপদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইন মেনে চলতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, নদীতীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অবৈধ মাটি ব্যবসার বিরুদ্ধে কার্যকর বার্তা দেবে বলে তাঁরা আশা করছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা, বালু উত্তোলন এবং ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেএইচআর