খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা ও দীঘিনালায় পৃথক সংঘাতের ঘটনায় আঞ্চলিক পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপ) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর মাটিরাঙায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে সংগঠনটির এক সশস্ত্র সদস্যকে একটি অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেলসহ আটক করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে মাটিরাঙা উপজেলার তৈইকাথান এবং দুপুর ১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োগড়া এলাকায় পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ইউপিডিএফ সদস্য ববিন ত্রিপুরা ও সুজন চাকমা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীঘিনালা ও মাটিরাঙার তৈইকাথান এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে পৃথক সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে ইউপিডিএফের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এর মধ্যে দুপুর ১টার দিকে দীঘিনালার মুড়োগড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সুজন চাকমা নিহত হন।
এদিকে মাটিরাঙার তৈইকাথান এলাকায় ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফের এক সশস্ত্র সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি সচল একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন এবং বেশ কিছু তায়া গুলি উদ্ধার করা হয়।
মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া একে-৪৭-সহ আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেএইচআর