ফেনীতে আড়াই লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

ফেনী প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

ফেনীতে এবার দুই লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৫ জন শিশুকে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন।

তিনি জানান, আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হবে। এই কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩০ হাজার ৪৭৩ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই লাখ ২৩  হাজার ১২ জন শিশুকে একটি করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জেলার মোট ১ হাজার ১২৪টি অস্থায়ী, ৭টি স্থায়ী এবং ৭টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রসহ সর্বমোট ১ হাজার ১৩৮টি কেন্দ্রে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন করে স্বাস্থ্যকর্মী ও ফেনীর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ মাঠপর্যায়ে ৭০০ থেকে ৮০০ জন কর্মী এই ক্যাম্পেইন সফল করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ফেনীর প্রতিটি যোগ্য শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়াতে পারলে আমাদের ক্যাম্পেইন সফল হবে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে শিশুদের চোখের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। শরীরে এর ঘাটতি হলে রাতকানা, কনজাংটিভার শুষ্কতা, বিটট স্পট, কর্নিয়ার শুষ্কতা ও কর্নিয়ার ক্ষতসহ নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ না করলে শিশুরা শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিটামিন ‘এ’ শুধুমাত্র রাতকানা রোগ প্রতিরোধই করে না, বরং এটি শিশুদের সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে জেলার সকল শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইমাম হোসেনের সঞ্চালনায় এই ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা ও সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহাদ এবং ডা. আমীর খসরু তারেকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচআর