পাগলা মসজিদের ৪৩ বস্তায় মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দিন দিন বাড়ছে দানের পরিমাণ। ছয় মাস পর শনিবার (২৭ জুন) মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খুলে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। দিনব্যাপী গণনা শেষে দানসিন্দুক থেকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।

রাত সাড়ে ৮টায় রূপালী ব্যাংক, কিশোরগঞ্জ শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শনিবার সকাল ৭টায় দানসিন্দুকগুলো খোলার কাজ শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে সারাদিন টাকা গণনা করা হয়।

দানসিন্দুক খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, দানের সব অর্থ পাগলা মসজিদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়। এসব অর্থ দিয়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বহুতল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পাগলা মসজিদের অর্থ নয়ছয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি টাকার সূক্ষ্ম হিসাব সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রতিবার গণনা শেষে সব অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়।

জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরে এক আধ্যাত্মিক সাধক বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘পাগল সাধক’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেখানে নির্মিত মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। অনেকের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এ মসজিদে দান করে থাকেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে এখানে।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে জমা হয়েছে আরও ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা।

এম জি