মাগুরা আদর্শ কলেজে দেড় কোটি টাকার অনিয়ম, পুনর্বহালের চেষ্টায় ক্ষোভ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

মাগুরা আদর্শ কলেজে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার বিশ্বাসকে পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, উল্টো অপসারণের আট মাস পরও তাঁর বেতন-ভাতা চালু রাখা হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন শ্যামল কুমার বিশ্বাস। এরপর বিভিন্ন খাতের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্নাতক (সম্মান) শাখায় শিক্ষার্থীদের ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের মধ্যে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও অন্যান্য শাখা থেকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকার গরমিল রয়েছে। এ ছাড়া কলেজ মার্কেটের দোকান ভাড়া ও লিজের টাকাতেও বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

চাপের মুখে অধ্যক্ষকে সরিয়ে গোলাম কাবিয়ারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম কাবিয়ার বলেন, আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। কিন্তু তাঁকে এখনো বরখাস্ত না করায় নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা চলমান রয়েছে।

এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল অনিয়মের অর্থ আদায়ের উদ্যোগ না নিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে আবার দায়িত্বে ফেরানোর জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অডিট কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. কবিরুল বাশার বলেন, তদন্তে আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পরিচালনা কমিটির।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পরিচালনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত শ্যামল কুমার বিশ্বাস গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জেএইচআর