শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন

আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষিকার দ্রুত বদলির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নেন। এ সময় তারা ‘বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঁচাও’ এবং ‘শিক্ষাঙ্গনে অত্যাচার আর নয়’ সংবলিত বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে আসছেন। সামান্য ভুলত্রুটিতেই তিনি শিশুদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং সেখানে লেখাপড়ার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক মুজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবে গালিগালাজ করা কোনো শিক্ষকের শোভা পায় না। তিনি শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। আমরা এমন শিক্ষিকাকে এই বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না এবং দ্রুত তাঁর বদলি দাবি করছি।

আরেক অভিভাবক সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, সন্তানদের গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করতে গেলে ওই শিক্ষিকা অভিভাবকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন এবং উল্টো নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান। একই ধরনের অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থীর মা-ও।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মাজেদুর রহমান জানান, তাঁর দায়িত্বকালেও শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত বদমেজাজি স্বভাবের এবং বহুবার সতর্ক করার পরও নিজের আচরণের কোনো পরিবর্তন করেননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজা উদদৌলা টিটু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। উল্টো তাঁর এমন আচরণে দিন দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন।

বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁর আচরণ বদলায়নি। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষিকা মোছা. ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ জানান, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জেএইচআর