দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে মাগুরার রাজনীতিতে নিজের এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন আলহাজ্ব মো. মাসুদ হাসান খাঁন কিজিল। আসন্ন মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে অন্যতম জনপ্রিয় নাম হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে পৌর বিএনপির এই সভাপতির নাম।
মাসুদ হাসান খাঁন কিজিল মাগুরা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান (১৯৬৫ সাল) মরহুম ওয়াজেদ আলী খাঁনের সন্তান। তাঁর ভাইদের মধ্যে বড় ভাই মনোয়ার হোসেন খাঁন মাগুরা-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। পারিবারিক এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই ১৯৮৯ সালে মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে কিজিলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি, পরবর্তীতে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং দীর্ঘ সময় পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে তৃণমূলের সরাসরি ভোটে তিনি পৌর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিগত সরকারের আমলে ১৬টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন কিজিল; সহ্য করেছেন গ্রেপ্তার ও কারাবরণ। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। করোনাকালীন মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জুলাইয়ের সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ৫ আগস্ট ভায়না মোড়ে নিহতদের গায়েবি জানাজায় ইমামতি করাসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
জেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে কিজিল নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনজুম হাসান সুমনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে দলটির সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গভীর জনসম্পৃক্ততার কারণে মাসুদ হাসান খাঁন কিজিল আসন্ন মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
জেএইচআর