টাঙ্গাইলে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একজনকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবং ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক সামছু। রায়ে তাঁদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার কটার বাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে আব্দুর রহিম। তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দীপু জানান, জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ গ্রামের এক নারীকে ২০২৩ সালের ২২ জুন টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা এলাকার ইয়াদ আলীর চালা নামক স্থানে বনের ভেতর একটি টং ঘরে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করেন আসামিরা। এই ঘটনার চার দিন পর ২৬ জুন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সাত্তার আদালতে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দীপু এবং আসামি পক্ষে মামলা লড়েন আইনজীবী শাহান শাহ সিদ্দিকী।
জেএইচআর