টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার অন্তত ১২টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক, যার ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে হারামিয়া, বাউরিয়া, গাছুয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্লাহ, দীর্ঘাপাড়া, মগধারা, মাইটভাঙ্গা ও মুছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে আজ সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খালের বাঁধ ও অবৈধ জাল অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই সময় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন।
ইউএনও আমজাদ হোসেন জানান, মগধারা ও মুছাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ খালের বাঁধ ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট বাঁধ অপসারণের কাজও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের খালের বাঁধ ও অবৈধ জাল সরাতে সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং গ্রাম পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের আশা, খালের কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হলে লোকালয়ের জলাবদ্ধতা কমে আসবে এবং প্লাবিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে লাঘব হবে।
জেএইচআর