জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমির মালিকানা ছেলের নামে লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাশেদা বেগম নামে এক বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাশেদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে পবিত্র কোরআন শরীফ বুকে জড়িয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
গত রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাশেদা বেগম তার বাবার বাড়ি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে ৫৬ শতাংশ জমি পেয়েছিলেন। পরে তিনি সেই জমি ভাইদের কাছে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে নিজের নামে অন্য একটি জমি কেনেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির দীর্ঘদিন ধরে মায়ের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন এবং বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম জাকির আগে ‘এমএম বিল্ডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে ৮৩ লাখ টাকার অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার জন্য আরও বেশি চাপ দিতে শুরু করেন। এমনকি জমি লিখে না দিলে মাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে রাশেদা বেগম এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। একপর্যায়ে রাশেদুল গেন্দারপাড়ার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরের মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। পরে রাশেদা বেগম বাড়িতে ফিরে এলে স্থানীয়রা গেটের তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ রোববার সকালে আবারও সালিশ বসে। সেখানে রাশেদুল ইসলাম জাকির মায়ের কাছে জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু রাশেদা বেগম তাতে রাজি না হলে প্রকাশ্যেই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে খবর পেয়ে তার ভাইয়েরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম বলেন, সম্পত্তির জন্য ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। জমি লিখে না দেওয়ায় তিনি নিজের স্বামীর বাড়িতেও থাকতে পারছিলেন না। জোর করে সেখানে থাকতে চাইলে ছেলে আত্মহত্যা করে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রোববার দুপুরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম জাকিরের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এএন