সিলেটের হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স আগামী শনিবার (১১ জুলাই) আবারও প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি নির্ধারিত এক মাসের সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। এই লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে কমিটির আরও দুটি বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশমালা তৈরি করা হবে।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আরও বলেন, "আগামী শনিবার দুপুর ১২টায় মাজারের দানবাক্স সবার উপস্থিতিতে খোলা হবে। এরপর প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শেষে ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগে থেকে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পুরো অর্থ জমা দেওয়া হবে।" মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এই কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে তার একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সমাধান আসবে এবং মাজারের মর্যাদা রক্ষায় একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ২২ জুন মাজারের প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে প্রথমবারের মতো সবার উপস্থিতিতে তিনটি ঐতিহ্যবাহী দানের ডেক ও একটি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শেষে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসনের নামে খোলা একটি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখা হয়।
উল্লেখ্য, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ১২ জুন প্রথম উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা দেন। এরপর ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং পুরোনো তিনটি দানের ডেক সিলগালা করা হয়।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। এক পক্ষ একে স্বাগত জানালেও অন্য পক্ষ মাজার পরিচালনায় প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নির্ধারণে গত ২৬ জুন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন।
জেএইচআর