টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য মা হাতির মৃত্যু

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত একটি বন্য মা হাতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

এর আগে শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়ালঘোনা পাহাড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম ও পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় লতাপাতা খাওয়ার সময় ভারসাম্য হারিয়ে হাতিটি প্রায় ১০০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে। এতে পেছনের দুটি পা ভেঙে যায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। হাতিটির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর।

খবর পেয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে সরানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা চলছিল।

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ বলেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেটির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা হাতিটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বন বিভাগের কর্মীরা এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, যে পাহাড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে এশীয় প্রজাতির অন্তত ২৩টি বন্য হাতির বিচরণ রয়েছে। চলমান ভারী বর্ষণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

এএন