গাইবান্ধা সদরের হরিনসিংহায় আবু রায়হান প্রধান (২১) নামে এক কিশোরকে দিঘির পানিতে চুবিয়ে আলোচিত হত্যার ঘটনায় দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। হত্যাকাণ্ডের ২৬ দিন পর শনিবার রাতে ঢাকা থেকে মো. সাকিব মিয়া (১৮) ও মো. রিফাদ মিয়া (১৬) নামের এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৬ জুন বিকেলে নিহত আবু রায়হানকে তাঁর দুই বন্ধু সাকিব ও রিফাত বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং তারা দিঘিতে গোসল করতে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রায়হানকে তারা দুজন মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে রাখে। এরপর রায়হান অচেতন হয়ে পড়লে তারা তাঁকে ফেলে রেখে চলে যায়। প্রতিবেশীরা রায়হানকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গত ১৯ জুন নিহতের বাবা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ৪৪ নম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা গা ঢাকা দিলে তাদের ধরতে মাঠে নামে র্যাব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাকিব ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় আত্মগোপন করে আছে।
গতকাল ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন সেন্টার শপিং মলের সামনে থেকে আরেক আসামি রিফাতকে সেই রাতেই ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাকিব মিয়া গাইবান্ধা সদরের হরিনসিংহা গ্রামের মো. জবান আলীর ছেলে এবং রিফাদ একই গ্রামের মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেএইচআর