তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও তীব্র যানজট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুর পাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া ও কান্দাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তাঘাট হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে পানি জমে থাকায় রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশ্বাস বেতকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ওঠে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এর মাঝে কারেন্টও নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, টাঙ্গাইল শহরে কাগজ-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। খাল ভরাট করে মার্কেট, বাসাবাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ করায় শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “সাবালিয়া খাল, শ্যামা বাবুর খাল, কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো উদ্ধার না করলে প্রতি বছরই এমন জলাবদ্ধতা হবে। এখনই খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।”

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। শহরের অটো, রিকশা ও সিএনজি চালকরা পানির অজুহাতে ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন। পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও প্যারাডাইস পাড়ার চা দোকানদার গনেশ চৌহান জানান, দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে এবং ক্রেতা না থাকায় গত ৩ দিনে বিক্রি একদম নেই বললেই চলে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং করা হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন জানান, জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত জেলায় বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং যমুনার তীরে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

জেএইচআর