লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা

মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। এই পয়েন্টে পানির স্বাভাবিক বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ, নদীটির পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির চাপ হু হু করে বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করলেও সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

ইতোমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরের নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যাও ক্রমে বাড়ছে।

নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এসবের মাঝেও থাকে সাপ ও পোকার প্রাদুর্ভাব।

পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদী তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এসব বাঁধ চলতি বন্যায় ভেঙে যাওয়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করছেন চরের বাসিন্দারা।

গোবর্দ্ধন গ্রামের সহিদার রহমান বলেন, ‘বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। এমন হলে দীর্ঘ দিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কার কাজ না করে বাঁধগুলো ফেলে রাখে, যার খেসারত দিতে হয় বন্যার সময়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এই কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। মূলত উজান থেকে কী পরিমাণ পানি আসছে, সেটার ওপরই নদীর সামগ্রিক পানির চাপ নির্ভর করছে।

জেএইচআর