স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সুন্দরবনের ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তাঁরা কোস্টগার্ডের কাছে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জমা দেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় খুলনায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেজবাউল আলম জানান, সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের মুখেই তাঁরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হয়। এ সময় দস্যুরা ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেন।

কোস্টগার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। এই দস্যুদের অধিকাংশই খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন পিরোজপুরের বাসিন্দা।

ক্যাপ্টেন মেজবাউল আলম বলেন, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ডের ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক বিশেষ অভিযানের কারণে দস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাতজন এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিনজন আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এবার ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন আত্মসমর্পণ করলেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও চালু থাকবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সুন্দরবনের অন্য সব সক্রিয় ডাকাতদেরও অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেএইচআর